Posted in

খামেনির সঙ্গে ইরানের আরও যেসব শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন

ইরানে ৩৬ বছর ধরে নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলায় প্রাণহানি হয়েছে ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গতকাল রোববার ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকালও ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল দাবি করেন, ইরানে হামলায় দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল ট্রাম্প এ–ও বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে, তিনি (ট্রাম্প) এতে রাজি হয়েছেন।

ইরান গতকাল সে দেশে হামলায় হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করেনি। আর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গতকাল ইসরায়েলে ৯ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল ছিল মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের দ্বিতীয় দিন। এর আগে প্রথম দিনে তেহরানে খামেনির বাসভবন ও কার্যালয়ে আকাশপথে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পর থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের গতকাল প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হামলায় খামেনি ছাড়াও তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন। ইরানের নিহত শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর। অসমর্থিত সূত্রে বরাত দিয়ে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন।

হামলায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু ইরানের জন্য বড় একটি আঘাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের অনেক শীর্ষ কর্মকর্তাও এ সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তেহরানের অর্থনীতিও বর্তমানে নড়বড়ে।

ইরানে এমন এক অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেশটিতে হামলা শুরু করা হয়েছে। এ হামলা দেশটির সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশে৵ বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মৃত্যু সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে তা অতটাও সহজ হবে না বলে মনে করেন ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলমান। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছিল কারাকাস। ইরান ভেনেজুয়েলা নয়; আর খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে ধারণা করা হয়। তিনি খুবই যোগ্য মানুষ।

শিগগিরই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তাঁর জন্ম ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দুই বছর পর নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। আইআরজিসির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হচ্ছেন? আপাতত দায়িত্ব পালন করবে ইরানের ‘লিডারশিপ কাউন্সিল’। সেখানে নতুন সদস্য হয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী সাংবিধানিক সংস্থা গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ধর্মীয় নেতা আলী রেজা আরাফি। তিন সদস্যের এই কাউন্সিলের অন্য দুই সদস্য হলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও প্রধান বিচারপতি মোহসেনি এজেই।

এই লিডারশিপ কাউন্সিলের হাতে দায়িত্ব থাকাকালে দু-এক দিনের মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আর আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাহিনীটির প্রধান হতে পারেন আহমাদ ভাহিদি। দুই মাস আগে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন খামেনি।

প্রতিশোধ নেবে ইরান

খামেনির মৃত্যুর পর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু করা পাল্টা হামলা চালিয়ে যাওয়া হবে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, ইরান সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবে। সশস্ত্র বাহিনী কঠোর আঘাত হানতে থাকবে এবং শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে থাকবে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

এ হুঁশিয়ারি অনুযায়ী গতকাল ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ষষ্ঠ দফায় হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। হামলায় জেরুজালেমের ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ৯ জন নিহত ও প্রায় ৫১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইসরায়েলে তেল আবিব ছাড়াও দখলকৃত পশ্চিম তীর ও হাইফা শহরে সতর্কসংকেত হিসেবে সাইরেন শোনা যায়।

মার্কিন রণতরিতে হামলার দাবি

ইরানে নতুন হামলার পটভূমি তৈরি হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে। ওই বিক্ষোভ দমনে তেহরান সফল হলেও তখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সমাবেশ বাড়াতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। মোতায়েন করা হয় একটি মার্কিন রণতরি। আরেকটি রণতরি ভূমধ্যসাগরের পথে ছিল। ইরানে হামলা জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

মধ্যপ্রাচ্যে আরব সাগরে যে রণতরি মোতায়েন রয়েছে সেটির নাম ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। সেটিতে গতকাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিএস। তবে আল–জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ওই ক্ষেপণাস্ত্র রণতরিটিতে আঘাত করেনি। যদিও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত এবং পাঁচ সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

এ ছাড়া গতকাল নতুন করে সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব দেশের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে ইরানের হামলায় ইরাকে দুজন, আরব আমিরাত ও কুয়েতে একজন করে নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইরাকে ৫ জন, কুয়েতে ৩২ জন, বাহরাইনে ৪ জন, আরব আমিরাতে ৫৮ জন ও ওমানে ৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে গতকাল যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার কাতারের দিকে এগোতে থাকা একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান। ইরানে হামলা শুরুর পর এটাই যুক্তরাজ্যের প্রথম পদক্ষেপ।

১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা হামলা

খামেনির মৃত্যুর পর গতকাল ইরানে হামলা জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরান যদি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেয়, তাহলে এমন শক্তি ব্যবহার করে আবারও হামলা চালানো হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও একই হুমকি দেন।

হয়েছেও তা-ই। গতকাল রাজধানী তেহরান বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর তারা প্রথমবারের মতো তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে।  আল-জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গতকাল তেহরানের সাতটি স্থানে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। এতে তেহরানের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে খাবার সংগ্রহ করে রাখছেন।

হামলা শুরুর দিন শনিবার ইরানে আকাশপথে সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সেদিন প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে মধ্য ও পশ্চিম ইরানে প্রায় ৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। আকাশ থেকে ফেলা হয় ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক হ্রাস পেয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া প্রথম দিনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরাসে অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৪৭ জন। এর মধ্যে ইরানের মিনাব শহরে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবার চালানো হামলায় গতকাল সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮-এ।

নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় রাজি ট্রাম্প

ইরানে হামলা শুরুর আগে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে আলোচনায় বসেছিল দুই পক্ষ। সেখানে ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী তেহরানের নানা বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে খামেনি হত্যার পর ইরান আর আলোচনায় বসবে বলে মনে করেন না আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলমান।

যদিও গতকাল মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। তিনি বলেন, ‘তারা আলোচনা করতে চায়। আর আমি রাজি হয়েছি। সুতরাং আমি কথা বলব। তাদের এটি আগে করা উচিত ছিল। এটি করা ছিল খুবই বাস্তসম্মত ও সহজ। তারা অনেক দেরি করে ফেলেছে।’

নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’

খামেনি হত্যার ঘটনাকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অস্থিতিশীলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেছেন। আর খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে ইরাক।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে চিলি ও ভেনেজুয়েলা। খামেনি হত্যার প্রতিবাদে ইরান, ইরাক, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। আবার খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে আনন্দ প্রকাশ করতেও দেখা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল–ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আব্বাস আসলানি বলেন, গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে সংঘাত হয়েছিল, তার চেয়ে এবারের সংঘাতের পরিধি ব্যাপক। গতকালও তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। এমন হামলা আরও কয়েক দিন ধরে চলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আর নিজ ভূখণ্ডে ইরানের হামলার জবাব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো কীভাবে দেবে, তা–ও পরিষ্কার নয়। এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের চিত্র কয়েক দিন পর কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *